← Back
Edit Book #3594
pending
no image
epub: epub/3594.epub
(582 KB)
Title
Author
ID: 47
Status
pending
completed
not_found
Review status
approved
pending
review_needed
Series
Series index
Genre
ISBN
Pages
Description
(primary — shown on site)
ছেলেটি চোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখল পোড়োবাড়িটির চারদিক উঁচু পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। ইটের দেয়ালের আশেপাশে, উপরে বিভিন্ন ধরনের ছোট ছোট জংলা গাছগাছালি জন্মেছে। সামনে ভাঙা একটি বিরাট দরজা। যার কোনো পাল্লা নেই। লোকটি এক রকম জোর করে টেনে নিয়ে ছেলেটিকে সেই দরজা দিয়ে ঢুকাল। তারপর দু’তিনটি ঘর, বারান্দা পেরিয়ে একটা ঘরের পাশে এসে নিচের দিকে সিঁড়ি দিয়ে নামতে লাগল। লোকটি এক হাত দিয়ে ছেলেটির এক হাতের বাহু শক্ত করে চেপে ধরে আছে। বেশ অনেকগুলো সিঁড়ি নামার পর পাতালের একটা বিরাট ঘরের কাছে এসে থামল। সামনে বড় একটা লোহার দরজা। বড় তালা দেয়া। লোকটি বন্ধ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে পাশেই ঝুলিয়ে রাখা চাবির গোছাটা হাতে নিয়ে একটি দিয়ে তালা খুলল। তারপর ঘড়ঘড় করে দরজার পাল্লাটা একদিকে সরিয়ে দিয়ে ছেলেটিকে নিয়ে ভিতরে ঢুকল। ভিতরে বিরাট হলঘরের মতো জায়গা। ঘরের ভিতরটা আবছা অন্ধকার। চোখে অন্ধকার সয়ে এলে আস্তে আস্তে ঘরের সবকিছু ছেলেটির নজরে এলো। তবে অন্ধকার বেশিক্ষণ থাকল না। লোকটি সুইচ টিপে একটি লাইট জ্বালিয়ে দিল। এতে ভিতরটা বেশ আলোকিত হয়ে গেল।কারখানার মতো বড় ঘর। এদিকে-সেদিকে বিভিন্ন রকমের লোহা-লক্কর ছাড়াও এটা-সেটা জিনিস ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। একদিকে বেশ কয়েকটি বাঁশের খুঁটি। সেগুলোতে ওর মতো কয়েকটি কিশোরকে হাত পিছমোড়া করে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। লোকটি লাঠির খট্খট্ আওয়াজ তুলে হেঁটে হেঁটে সবগুলো ছেলের কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে পরখ করল। দাঁত বের করে ফ্যাক ফ্যাক করে হাসল। টুকটাক কথাবার্তাও বলল। এসব দৃশ্য দেখে ছেলেটির বুক ঢিপঢিপ করতে লাগল। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল। ওর সামনে এসে লোকটি দাঁড়ালে ছেলেটি তোতলাতে তোতলাতে জানতে চাইল, ‘আমাকে এখানে এনেছেন কে-কেন?’লোকটি ছেলেটির দিকে অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে এবার অন্যরকম ভঙ্গিতে হেসে বলল, ‘পারবে। সময় হলে সব বুঝতে পারবে। আর কোনো কথা নয়।’ তারপর মাথা ঝাঁকিয়ে বলল, তুমি তাহলে এদের সঙ্গে আপাতত থাকো। আমি পরে আসব। লাঠির খট্খট্ আওয়াজ তুলে লোকটি বেরিয়ে যাচ্ছে। এ সময় সম্বিত ফিরে পেয়ে ছেলেটি পিছনে পিছনে দৌড়ে গেল। কিন্তু পৌঁছানোর আগেই লোকটি বেরিয়ে গিয়ে দরজা আটকে দিল। ওপাশে চাবি ঘুরিয়ে দরজা বন্ধ হওয়ার আওয়াজ পাওয়া গেল। ছেলেটি হতাশ হয়ে চিৎকার করতে করতে দরজার কাছেই বসে পড়ল। ক্লান্তি শ্রান্তিতে শরীর, মন ভেঙে আসতে চাইছে।কিছুক্ষণ পর ছেলেটির মনে হলো আরে অন্য ছেলেদের মতো করে তো ওকে বেঁধে রেখে যায়নি। তাহলে এখান থেকে তো বের হওয়ার একটা বুদ্ধি করা যেতে পারে। ও তাড়াতাড়ি উঠে পড়ল। অন্য ছেলেগুলোর দিকে এগিয়ে গেল। গুনে গুনে দেখল মোট দশটি ছেলেকে খুঁটির সাথে হাত বেঁধে রাখা হয়েছে। জিজ্ঞেস করল, ‘তোমরা এখানে এলে কী করে?’একজন বলল, ‘তোমাকে যেভাবে ধরে এনেছে আমাদেরকেও সেভাবে ধরে এনেছে।’‘কিন্তু এভাবে ধরে এনে বন্দি করে রাখার কারণ কী?’‘সময়-সুযোগমতো আমাদের অন্য দেশে পাচার করা হবে।’‘তাই না কি? এ তো মারাত্মক ব্যাপার। তোমরা জানলে কী করে?’‘ওই লোকটির সঙ্গে আরো একটি লোক আছে। তাদের কথাবার্তা থেকে শুনেছি। অন্য লোকটি আমাদের জন্য খাবার নিয়ে আসে।’ছেলেটি মাথা চুলকাতে চুলকাতে কী যেন ভাবল। তারপর ছেলেদের দিকে তাকাল, ‘তার মানে এরা পাচারকারী?’এবারে অন্য একজন বলল, ‘হ্যাঁ, বিদেশে মানুষ পাচার করে।’‘আচ্ছা আচ্ছা। তাহলে কি এখান থেকে আমাদের মুক্তির কোনো উপায় নেই?’একজন বলল, ‘তা জানি না।’আরেকজন বেশ উৎসাহ নিয়ে বলল, ‘আরে উপায় তো আছে। তোমাকে তো দেখছি আমাদের সবার মতো বেঁধে রেখে যায়নি। সম্ভবত লোকটি ভুলে গেছে।’ছেলেটি বলল, ‘হ্যাঁ, তাই তো মনে হচ্ছে। আর লাইটও নিভিয়ে যেতে ভুলে গেছে। আমি যখন খোলা অবস্থায় আছি তখন তো বের হওয়ার বুদ্ধি করা যায়।’অন্যরা সমস্বরে বলল, ‘অবশ্যই। এটাই সুযোগ।’‘কিন্তু কিভাবে কী করা যায় তোমরা বুদ্ধি বের করো।’একজন বলল, ‘কিছুক্ষণ পর ওই লাঠিঅলা লোকটি অন্যজনের সঙ্গে খাবার নিয়ে আসবে। তখন তাদেরকে কাবু করতে পারলে আমরা সহজে এখান থেকে বের হতে পারব।’অন্য একজন বলল, ‘হ্যাঁ, ঠিক কথা।’ হাত খোলা ছেলেটির উদ্দেশ্যে করে বলল, ‘তোমার যেহেতু হাত খোলা আছে সেক্ষেত্রে তুমি আমাদের হাতের বাঁধন খুলে দাও। আর পিছনে দড়িটা খুঁটির সাথে হালকাভাবে আটকে রাখো। তুমিও এভাবে একটা খুঁটির সাথে পিছনে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকো। তাহলে ওরা মনে করবে সবার হাত আগের মতো বাঁধাই আছে। তখন সবাই মিলে আমরা ওদের ধরে বেঁধে ফেলব।’এবারে অন্য একজন বলল, এতে বেশি সময় লেগে যেতে পারে। তার চেয়ে আগে আমরা সবাই দরজার পাশে লুকিয়ে থাকব। ওরা ঢোকার পর দরজা তো খোলা থাকে, আর ভিতরে যেহেতু আবছা আঁধার আছে। সেক্ষেত্রে ওরা ঢুকেই কিছু করতে পারবে না। আমাদের দেখতে হলে দরজা থেকে ঢুকে কিছুদূর হেঁটে আসতে হবে। ওরা ঢুকে যখন আমাদের দিকে হাঁটা শুরু করবে তখনই বেরিয়ে যাব। আর দরজার কড়ায় তালার সঙ্গে চাবি লাগানোই থাকে। আমরা পাল্লা টেনে দিয়ে চাবি ঘুরিয়ে তাড়াতাড়ি তালা লাগিয়ে দেবো।’সবাই আবার একসঙ্গে বলে উঠল, ‘হ্যাঁ, তোমার বুদ্ধিটা ভালো। এটা করা যেতে পারে।’বাঁধন খোলা নতুন আসা ছেলেটি কিছুক্ষণ কী যেন ভাবল। তারপর জিজ্ঞেস করল, কিন্তু ওরা কখন খাবার নিয়ে ঢুকবে? সেটা জানতে পারলে ভালো হতো।’‘খাবার দেয়ার সময় হয়ে গেছে। আধাঘণ্টার মধ্যেই হয়তো চলে আসবে।’‘তাহলে আমি তোমাদের সবার হাতের বাঁধন খুলে দিচ্ছি। আচ্ছা, খাবার সময় তোমাদের হাতের বাঁধন খুলে দেয় না?’‘সবাইকে একসঙ্গে খেতে দেয় না। দুজনের বাঁধন খুলে দেয়। তাদের খাওয়া হলে অন্য দুজনের খোলা হয়। এভাবে দুজন করে খেতে দেয়।’‘ও আচ্ছা।’ ছেলেটি কাজ শুরু করল। একে একে সবার হাতের বাঁধন খুলে দিয়ে মুক্ত করল। আর একটু পরেই এই বন্দিদশা থেকে তারা মুক্তি পাবে এই আনন্দে সবার চোখ, মুখ আনন্দে ঝলমল করতে লাগল।একজন বলল, ‘এখন কেউ কোনো রকম শব্দ করবে না বা কথা বলবে না। চলো আমরা দরজার পাশে বসে থাকি। ওদের আসার সময় হয়ে গেছে।’নতুন আসা ছেলেটি বলল, ‘আমরা এখান থেকে বেরিয়ে সবার সাথে সবাই পরিচিত হবো কেমন? তবে আমার নামটা তোমরা শুনে নাও। আমার নাম কবির।’সবাই বলল, ‘হ্যাঁ, ঠিক আছে।’কবির বলল, ‘কিন্তু তার আগে আমার পানি খাওয়া দরকার। খুব পিপাসা লেগেছে।’একজন বলল, ‘তুমি একটু অপেক্ষা করো। আমি পানি আনছি। ছেলেটি দৌড়ে গিয়ে
Wiki description
Goodreads description
(populated via Goodreads Get)
Goodreads genre
(from Goodreads Get)
Rokomari URL
Get
Rokomari description
(populated via Rokomari Get)
Rokomari category
(from Rokomari Get)
Wiki URL
Get
Prothoma URL
Batighar URL
Goodreads URL
Get
Cover URL (remote)
(edit to update preview)
Get
Cover local path
(edit to update preview)
Save changes
Cancel
Delete book